অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর নকআউটে জয়, স্পেন শেষ ষোলোতে দাপটের বার্তা

দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে দাপটের সঙ্গে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মিকেল ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি গোল করেন পেদ্রো পোরো।

২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা তিনটি আসরে নকআউট পর্বে জয়হীন ছিল স্পেন। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে অস্ট্রিয়াকে কার্যত কোনো সুযোগই দেয়নি তারা।

ম্যাচের শুরুতেই আলেক্স বায়েনার পাস থেকে লামিনে ইয়ামাল গোলের সুযোগ পেলেও অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের দুর্দান্ত সেভে বঞ্চিত হন। ২৯তম মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার জোরালো শট জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পাউ কুবারসির ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে।

তবে ৩৬তম মিনিটে আর ভুল করেনি স্পেন। পেদ্রির দারুণ আক্রমণ থেকে বাঁ প্রান্তে উঠে আসা কুকুরেয়ার নিচু ক্রসে কাছ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই শেষ করে স্প্যানিশরা।

বিরতির পর ৬১তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রিয়া। বদলি খেলোয়াড় মার্সেল সাবিটসারের নিখুঁত ক্রস থেকে সাশা কালাইদজিচের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। ৬৬তম মিনিটে কুকুরেয়ার বল কেড়ে নেওয়ার পর আলেক্স বায়েনার কাটব্যাক থেকে পেদ্রো পোরো হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

৮৯তম মিনিটে কুকুরেয়ার আরেকটি নিখুঁত পাস থেকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওইয়ারসাবাল। তাতেই ৩-০ ব্যবধানের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে স্পেন।

টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ফুটবলে ফিরেছে স্পেন। কারিগরি দক্ষতা, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং শক্তিশালী দলগত সমন্বয়ের সমন্বয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen − 3 =