আবারও জ্বলে উঠল মরক্কো, স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে শক্ত অবস্থানে আফ্রিকানরা

সালেক সূফী

স্কটল্যান্ড ০ : মরক্কো ১

ফিফা র‌্যাঙ্কিং: স্কটল্যান্ড ৪০, মরক্কো ৭

বোস্টনের স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কো। ম্যাচের মাত্র ৭১ সেকেন্ডে এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলটি করে দলকে জয় এনে দেন ইসমায়েল সাইবারি।

প্রথম ম্যাচে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আলোচনায় এসেছিল মরক্কো। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ড হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ফলে দুই দলের লড়াইটি ছিল গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ।

শুরুতেই মরক্কোর আঘাত

খেলা শুরুর পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেরও আগে ডিয়াজের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন ইসমায়েল সাইবারি। ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করা এই মিডফিল্ডার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করে নিজের গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করলেন।

গোলের পর মরক্কো রক্ষণে নেমে যায়নি। বরং বলের দখল ধরে রেখে সংগঠিত ফুটবল খেলেছে পুরো দল। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা স্কটল্যান্ডকে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

স্কটল্যান্ডের চেষ্টা, কিন্তু গোলের দেখা নেই

প্রথমার্ধের বাকি সময় এবং পুরো দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে স্কটল্যান্ড গোল শোধের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। কয়েকটি আক্রমণ প্রতিশ্রুতি জাগালেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে হতাশ হতে হয়েছে তাদের।

অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের রক্ষণভাগকে সুশৃঙ্খল রেখে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজেছে। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছেড়েছে আফ্রিকান দলটি।

গ্রুপের সমীকরণ আরও জমে উঠেছে

এই জয়ে মরক্কোর সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে চার পয়েন্টে এবং আপাতত তারা গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে। তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড।

তবে গ্রুপের অবস্থান এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ব্রাজিল ও হাইতির মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের ওপর অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, আর মরক্কো মুখোমুখি হবে হাইতির।

মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই

ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর পারফরম্যান্স দেখে যারা ব্রাজিলকে নিয়ে হতাশ হয়েছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—মরক্কো এখন আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরোধ গড়া দল নয়; তারা দক্ষতা, কৌশল ও সৃজনশীলতার অসাধারণ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি পরিপূর্ণ দল।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল মরক্কো। এবারের আসরেও তারা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। বর্তমান দলটির অনেক খেলোয়াড় ইউরোপে জন্মগ্রহণ করেছেন কিংবা সেখানেই বেড়ে উঠেছেন ও খেলছেন। আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল পরিবেশে নিজেদের গড়ে তোলার সুবিধা তারা জাতীয় দলে কাজে লাগাচ্ছেন।

বাংলাদেশের জন্যও শিক্ষণীয় বার্তা

মরক্কোর এই মডেলটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ফুটবল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা কিংবা উন্নত ফুটবল পরিবেশে খেলা দক্ষ ফুটবলারদের জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা আধুনিক ফুটবলের বাস্তবসম্মত কৌশল।

বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে হলে হামজা চৌধুরী, সমিত সোমদের মতো বিদেশে বেড়ে ওঠা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফুটবলারদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই। বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনাই ভবিষ্যতে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − fifteen =