এম্বাপ্পের জোড়া গোলে উড়ে গেল সুইডেন, দুর্দান্ত ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে

ফ্রান্স ৩: সুইডেন ০

বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্স যেন দিন যত যাচ্ছে, ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। আক্রমণভাগের গতি, মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সমৃদ্ধ দিদিয়ের দেশমের দল এবারও নিজেদের শিরোপার দাবিকে আরও শক্তিশালী করল। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপটের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ‘লে ব্লু’রা।

জয়ের নায়ক যথারীতি কিলিয়ান এম্বাপ্পে। ফরাসি অধিনায়কের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। পুরো ম্যাচেই সুইডেনকে চাপে রেখে আধিপত্য বিস্তার করে ফ্রান্স।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এম্বাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৮-তে, যা লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র একটি কম। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (৮ গোল) দখলে। এবারের বিশ্বকাপে এম্বাপ্পের গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬, ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে।

তবে ম্যাচের আরেক নায়ক ছিলেন মাইকেল ওলিসে। বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করে ফ্রান্সের আক্রমণের প্রাণভোমরায় পরিণত হন। এবারের বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্টসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫, যা ১৯৯৪ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। ম্যাচে সর্বাধিক ৯৪ বার বল স্পর্শ এবং ৬টি শটও ছিল তার নামের পাশে। মাঝমাঠ থেকে একের পর এক নিখুঁত পাসে সুইডেনের রক্ষণকে বারবার বিপর্যস্ত করেন তিনি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে উসমান দেম্বেলের বাড়ানো বল থেকে ডান পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এম্বাপ্পে। বিশ্বকাপে এম্বাপ্পে-দেম্বেলে জুটির যৌথ গোল অবদান এখন ছয়ে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে তারা ছাড়িয়ে গেছে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা-মাইকেল বলাক এবং পোল্যান্ডের গ্রেগরজ লাতো-আন্দ্রেজ শারমাখ জুটির পাঁচ গোলের রেকর্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে ওলিসের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এরপর ৭৪তম মিনিটে আবারও ওলিসের পাস ধরে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এম্বাপ্পে।

৩-০ ব্যবধানের জয়টি আরও বড় হতে পারত। ফ্রান্সের দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অন্যদিকে পুরো ম্যাচে সুইডেন তেমন কোনো কার্যকর আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি।

ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে মায়ের শেষকৃত্য শেষে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের জন্যও এটি ছিল স্বস্তির জয়। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা প্রতিটি গোল উদযাপন করেছেন কোচের সঙ্গে, আর দর্শকরাও স্ট্যান্ডিং ওভেশনে সম্মান জানিয়েছেন দেশম, এম্বাপ্পে ও ওলিসেকে।

এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্স বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচটি ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ল। একই সঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে তারা। এর আগে এমন কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছিল কেবল ব্রাজিল ও জার্মানি।

কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ৫ জুলাই ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে দক্ষিণ আমেরিকার চমক জাগানো দল প্যারাগুয়ে। বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে শিরোপার পথে ফরাসিদের থামানো যে কোনো দলের জন্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − seventeen =