গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে নেদারল্যান্ডস

তিউনিশিয়াকে শেষ ম্যাচে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ-এফ’র শীর্ষ দল হিসেবে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। শেষ ৩২’এ তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

রোনাল্ড কোম্যানের দল কানসাস সিটিতে রক্ষনাত্মক কৌশলে খেলা উত্তর আমেরিকান দলটির বিপক্ষে ম্যাচের ৭ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলের লিড নেয়। ডেনজেল ডামফ্রাইসের ক্রসে এলিয়েস শিকিরির আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় ডাচরা। চার মিনিট পর সান্ডারল্যান্ড ফরোয়ার্ড ব্রায়ান ব্রবে পোস্টের খুব কাছ থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন।

এতেই যেন নেদারল্যান্ডসের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সমযয়ে এ্যারোহেড স্টেডিয়ামে কমলা রঙের পোশাক পরা ডাচ সমর্থকেরা ‘মেক্সিকান ওয়েভে আনন্দে মেতে ওঠেন।

দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া একটি গোল শোধ করলেও, এক ঘণ্ট পর ইয়ান ফল ভন হেকের হেডে আবারও দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে য়ায় নেদারল্যান্ডস।

নেদারল্যান্ডসের কোচ কোম্যান সম্ভাব্য শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা সহ-আয়োজক কানাডাকে নিয়ে এখনই ভাবতে রাজি নন।

তিনি বলেন, “সবার আগে আমাদের মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে, কারণ এটি খুব কঠিন একটি ম্যাচ হবে। তারা অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় নিয়ে গড়া একটি ভালো দল এবং খুব সহজেই গোল করতে পারে। ডাচ ফুটবলে আমরা সেটা ভালোভাবেই জানি।”

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে বজ্রঝড় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করলেও বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়।

ম্যাচের শুরুতেই তিউনিসিয়া এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কাছ থেকে নেওয়া ইসমায়েল ঘারবির শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তৃতীয় মিনিটে আত্মঘাতী গোলে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন শিকিরি। তিনবারের বিশ্বকাপ ফাইনালিস্টরা পেয়ে যায় কাঙ্খিত সূচনা।

মাত্র চার মিনিট পরই ব্রবে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ গোলটি করেন। ভার্জিল ফন ডিকের ফ্রি-কিক থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান ব্রবে। ৫৪তম মিনিটে হানিবাল মেজব্রির কর্ণার থেকে হাজেম মাস্তোরি হেড করে একটি গোল শোধ দেন। কয়েক মিনিট পর রেইন্ডার্সের কর্নার থেকে ভ্যান হেকের হেড প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে পড়ে।

তিন ম্যাচে ১২ গোল হজম করে হতাশাজনক এক অভিযানের পর মাথা নিচু করেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হচ্ছে তিউনিসিয়াকে।

দলের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোতে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করা হয়। তার জায়গায় গত সপ্তাহে নিয়োগ পান অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড।

কিন্তু তিনিও দলের পতন ঠেকাতে পারেননি। বাছাইপর্বে একটি গোলও না খেয়ে বিশ্বকাপে ওঠা তিউনিসিয়া মূল পর্বে প্রথমে জাপানের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়, এরপর হারে নেদারল্যান্ডসের কাছেও।

৫৭ বছর বয়সী রেনার্ড বলেন, “এই বিশ্বকাপের মানের সঙ্গে আমরা তাল মেলাতে পারিনি। এটা একেবারেই পরিষ্কার। এ নিযয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এটি অসাধারণ সব দলের একটি বড় টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে আমাদের গ্রুপটি ছিল অত্যন্ত কঠিন। এখন তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশনের উচিত টুর্নামেন্টের সবকিছু বিশ্লেষণ করা।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fourteen + 5 =