ধর্ম-বর্ণ-ভাষাভিত্তিক বিভেদ সৃষ্টির কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল, ৩১ জুলাই, ২০২৬ – তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পাহাড়ি-সমতল, ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজন সৃষ্টির কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। খবর বাসস

শুক্রবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা কিংবা ধর্মের নামে রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ধর্মের মৌলিক চেতনা, মানবতা এবং সৃষ্টিকর্তার শিক্ষার পরিপন্থী।

রাজনীতি ও ধর্মের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের বিষয়, আর রাজনীতি পরিচালিত হয় জনগণের কল্যাণ, সামাজিক ন্যায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক দল, প্রতীক বা নেতা কেউই দেবত্বপ্রাপ্ত নন। জনগণ যতদিন তাদের কর্মকাণ্ডে নিজেদের কল্যাণ খুঁজে পাবে, ততদিনই তারা গ্রহণযোগ্য থাকবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মচর্চাকারীরা যখন ধর্মের নামে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের চিনতে ও প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। নিজ নিজ ধর্ম যথাযথভাবে অনুসরণের মধ্য দিয়েই অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে। কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সাম্প্রদায়িক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইলে ধর্মপ্রাণ মানুষকেই তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার জন্য সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নীতি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ পুনর্ব্যক্ত করেন।

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seven + three =