সালেক সুফী
পাকিস্তানকে নিজ দেশে এবং বাংলাদেশে টেস্ট ক্রিকেটে উপর্যপুরি ধবল ধোলাই করার পর বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমিকদের প্রত্যাশা আকাশ ছুঁয়েছে। শুধু টেস্ট ক্রিকেট নয় সাদা বলের দুই ফরম্যাটেও বাংলাদেশের ক্রমোন্নতি দৃশ্যমান। বাংলাদেশের আগামী টেস্ট অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সফর। আর সাদা বলে দেশের মাটিতে চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ। জুন মাসেই বাংলাদেশে ওডিআই এবং টি ২০ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া। ইতিমধ্যে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। সেই স্কোয়াড গুলোতে নানা কারণে নেই প্রথম চয়েস বোলার এবং ব্যাটসম্যান। এদের কয়েকজন আইপিএল খেলছে বাকিদের টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া ওডিআই স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জাভিয়ার বার্টলেট, আলেক্স কারী, কুপার কনোলি, বেন দুয়ারহোস, নাথান এলিস,ক্যামেরুন গ্রীন, ট্রাভিস হেড, জস ইংলিশ, ম্যাথিউ কুহনেমান, মার্নাস লাবুসঙ্গ, ম্যাথিউ রেনস, তানভীর সংগা, লিয়াম স্কট এবং এডাম জাম্পা।
অস্ট্রেলিয়া টি২০ স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জাভিয়ার বার্টলেট, আলেক্স কারী, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, নাথান এলিস, ক্যামেরুন গ্রীন, আরন হার্ডি, ট্রাভিস হেড, জস ইংলিশ, স্পেন্সার জনসন, ম্যাথিউ কুহেমান, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপে, ম্যাথিউ রেনস এবং এডাম জাম্পা।
হয়ত অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড দুইটিতে মিচেল স্টার্ক, পাট কামিন্স, জস হেজেলউড স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নেই। কিন্তু যারা আছে তারা বিশ্বমানের। এরা সবাই কেএফসি বিগব্যাশ খেলে থাকে, অস্ট্রেলিয়া রাজ্য দলের হয়ে অনেক উন্নত পরিবেশে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে থাকে। ওডিআই এবং টি ২০ দুই ফরম্যাটে আইসিসি র্যাংকিংয়ে তিন নম্বর অবস্থানে। বাংলাদেশ দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টি২০ এবং টেস্ট ক্রিকেটে হারিয়েছে। ওডিআই ক্রিকেটে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র একবার মোহাম্মদ আশরাফুল ম্যাজিকে ইংল্যান্ডে জিতেছিলাম। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ কিন্তু অনেক ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং ব্যাটিং নিয়ে এবার কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হার না মানা মনোভাব নিয়ে খেলবে।
আমি দীর্ঘ দিন মেলবোর্ন ছিলাম এখন ব্রিসবেন থাকি। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট পরিবারের সদস্য হিসাবে জানি অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক উঁচু মানের খেলোয়াড়রা শারীরিক এবং মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা কিন্তু উপযোগী উইকেটে ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতির পেস বোলারদের নিয়মিত খেলে। তাই নাহিদ রানা, তাসকিন, শরিফুলকে ওরা কিন্তু পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের অনেক ভালো ভাবেই সামাল দিবে। ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, ক্যামেরুন গ্রিন, জস ইংলিশ, টিম ডেভিড কিন্তু উঁচু মানের ব্যাটসম্যান। তবে দেখতে হবে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় চয়েস পেস আক্রমণ বাংলাদেশ উইকেটে কেমন মানিয়ে নেয়। বাংলাদেশকে অন্তত স্টার্ক, কামিন্স, হেজেলউডকে খেলতে হবে না। এডাম জাম্পকে দেখে শুনে খেলতে হবে।
ওডিআই এবং টি২০ ফরম্যাটেও বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ভালো খেলেছে। ওডিআই সিরিজের তিনটি ম্যাচ ঢাকায় হবে। আশা করবো স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হবে। আর গ্রীন টপ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং মোকাবেলা করা বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগবে। বাংলাদেশ ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা শংকা আছে। তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন মেধাবী সন্দেহ নেই। কিন্তু ধারাবাহিকতা নেই। সৌম্য সরকারকে আবারো একটু লম্বা সময়ের জন্য সুযোগ দিতে হবে। নাজমুল শান্ত এখন অনেক ধারাবাহিক। আস্থা আছে তাওহীদ হৃদয় এবং লিটন দাসের উপরেও। কিন্তু মিডেল অর্ডারে দুর্বলতা আছে। মুশফিকুর রাহিম বা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের শুন্য স্থানে সে ভাবে কেউ গড়ে উঠেনি। জাকের আলী অনীক, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এখনো নিজেদের প্রমান করতে পারেনি। মেহেদী মিরাজ নিয়মিত ভালো ব্যাটিং করতে পারছে না। বোলিং অল রাউন্ডার হিসাবে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নিজেকে মেলে ধরতে পারছে না। আমি বোলিং নিয়ে আশাবাদী। মুস্তাফিজ, নাহিদ রানা, তাসকিন, শরিফুল, তানজিম সাকিব অনেক বিকল্প আছে। সবার লোড ম্যানেজমেন্ট করে সুযোগ দিতে হবে। রিশাদ হোসেন তুরুপের তাস হতে পারে। মাহেদী হাসানকে কাজে লাগানো যাবে। বাংলাদেশ এখন অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে মোকাবিলা করবে। ওডিআই সিরিজটি আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি কঠিন হলেও সিরিজ জয়ের সামর্থ আছে বাংলাদেশের।