সালেক সুফী
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় আর্জেন্টিনা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল এবারের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অন্যতম ফেভারিট। বর্তমান প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ ম্যারাডোনা, মেসির মত বিশ্ব বরেণ্য খেলোয়ারদের আকর্ষণে আর্জেন্টিনার গুণমুগ্ধ সমর্থক। ইউরোপ দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলে সাড়া জাগানো সৃজনশীল ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া আর্জেন্টিনা এবারে বিশ্বকাপ জয় করলে উপর্যপুরি দ্বিতীয়বার শিরোপা জয় করে ব্রাজিলের রেকর্ড স্পর্শ করবে। এবারের বিশকাপে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালের মত শক্তিশালী দল থাকলেও আর্জেন্টিনাকে অবশ্যই ফেভারিট তালিকায় রাখবো।
বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কোচ এস্কালোনি ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের ২৬ জন থেকে ১৭ জন ধরে রেখে বেশ কয়েকজন উদীয়মান তরুণ প্রতিভাকে সযুক্ত করে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। ফুটবল বিশ্বের তর্ক সাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি পেশাদারি জীবনের গোধূলি বেলায় এখনো জাদুকরি পরশে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে সামর্থ্য রাখে। দলে আছে ইন্টারমিলানে খেলা তুখোড় ফরোয়ার্ড মার্টিনেজ এবারের ইতালিয়ান লিগে ১৭ গোল করে ছিল সর্বোচ্চ গোল দাতা। আতলেতিকো মাদ্রিদে খেলা জুলিয়ান আলভারেজ কুশলী গোল স্কোরার। আছে ফর্মের তুঙ্গে।

মধ্যমাঠে আছে প্রিমিয়ার লীগ আর লা লিগায় আলো ছড়ানো লিভারপুলের আলেক্সিস ম্যাক এলিস্টার, চেলসির এনজো ফার্নান্দেজ আর আটলেটিসের ডি পল। এদের যোগাযোগে আর্জেন্টিনার মাঝ মাঠ থাকবে গতিশীল। রক্ষণ এবং আক্রমণভাবের মিলন মোহনা হয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে ওরা।
অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্ডি আর ক্রিস্টিয়ান রোমেরো সামাল দিবে রক্ষণভাগ। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এমিলিও মার্টিনেজকে গোল রক্ষক হিসাবে পরিচিত করানোর প্রয়োজন রাখেনা। প্রথম রাউন্ড, গ্রুপ অফ ৩২, গ্রুপ অফ ১৬ পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পৌঁছে আর্জেন্টিনাকে তুখোড় ইউরোপিয়ান দল স্পেন বা পর্তুগালের মুখোমুখি হতে হবে। এই পর্যায়ে সেয়ানে শেয়ানে লড়াই হবে। জানিনা কিছুটা বর্ষীয়ান আর্জেন্টিনা লম্বা টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে কিনা।
স্কোয়াড: গোলরক্ষক
এমিলিও মার্টিনেজ (আস্টন ভিলা) জেরোনিমো রুলি (মার্সেলি) জুয়ান মুসো (আথলেতিকো মাদ্রিদ)
রক্ষণ ভাগ: গঞ্জালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), লিসান্দ্র মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওটামেন্ডি (বেনিফিকা), লিওনার্দো বালেরদি (অলিম্পিক মার্সেলি), ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), ফাকুন্ড মেদিনা (মার্সেলি) এবং নিকোলাস তাগলীযাফিক (লিওন)।
মাঝ মাঠ: লিয়ান্দ্র পারদেশ (বোকা জুনিয়রস), রোড্রিগো ডি পল (ইন্টার মিয়ামি), এক্সএকুইল প্লেসিওস (বায়ের লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), আলেক্সিস ম্যাক এলিস্টার (লিভারপুল), গিওভানি লো সেলসো (রিয়েল বেটিস) এবং ভ্যালেন্টাইন বার্কো (স্ট্রাসবুর্গ )।
ফরোয়ার্ডস
লিওনেল মেসি (ইন্টারমিলান), নিকোলাস পাজ (কোমো), থিয়েগো আলমডা (আটলেটিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস গনজালেস (আতলেতিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ান আলভারেজ (আটলেটিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ানো সিমিওন (আটলেটিকো মাদ্রিদ), লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান) এবং জোস্ ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেরিয়াস)।
আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল বিশ্ব জুড়ে দুটি সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশ। জানি বাংলাদেশেও আছে দুটি দলের কোটি ভক্ত সমর্থক। মহানগর, শহর শুধু নয় গ্রামে গঞ্জেও ছড়িয়ে আছে অগণিত অন্ধ ভক্ত। তবে এবারের বিশ্ব কাপে শক্তিশালী ইউরোপীয় আর আফ্রিকান টিমের ভিড়ে হয়ত আজের্ন্টিনা এবং ব্রাজিল দুটি দলের একটিও ফাইনালে পৌঁছতে পারবে না। ভুল প্রমাণিত হলে আমিও অন্যন্দিত হবো। এই বিশ্বকাপ হয়তো ভিন্ন গ্রহের ফুটবল জাদুকর মেসির পেশাদারি ফুটবল জীবনের শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপ ২০২২ কাতারের দোহায় মেসির হাতে শোভা পেয়েছে। আবারো শেষটা রাঙাতে পারবে কিনা দেখার অপেক্ষায় থাকবে ভক্তকুল।