বিশ্বকাপ ৬৪ দলে সম্প্রসারণের ভাবনা, টুর্নামেন্ট শেষে আলোচনা করবে ফিফা

ঢাকা, ১৩ জুলাই ২০২৬ – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪-এ উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

সুইস সম্প্রচারমাধ্যম ব্লু স্পোর্টস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রতিটি দেশের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে। বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, এটি পুরো বিশ্বের আসর। তাই প্রতিটি দেশেরই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখার এবং সেই সুযোগ পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে জাতীয় দলগুলোর মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে। ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির প্রেরণাও কমে যেতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে। আগের ৩২ দলের পরিবর্তে সম্প্রসারিত এই আয়োজন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এবার ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও ৬৪ দলের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১২৮-এ।

৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণাটি প্রথম সামনে আসে ২০২৫ সালের মার্চে, যখন দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল ২০৩০ বিশ্বকাপকে শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে ৬৪ দলে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয়।

পরবর্তীতে নিউইয়র্কে কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো।

সে সময় ডোমিঙ্গেজ বলেছিলেন, “আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ চাই, যা সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক উদযাপনে পরিণত হবে। ফুটবল সবার জন্য—এই বার্তাই আমরা তুলে ধরতে চাই।”

তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে মতভেদ রয়েছে। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টগ্লিয়ানি এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ জাতীয় দল, ক্লাব ফুটবল, লিগ ও খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি বৃহত্তর ফুটবল ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।

একইভাবে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার শেফেরিনও ৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণাকে “খারাপ পরিকল্পনা” বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন ও আলোচনা শুরু হবে। এর পরই সিদ্ধান্ত হবে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পথে এগোবে কি না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + 3 =