বিশ্লেষণ – ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ, হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা

টেস্ট সিরিজের হতাশার পর ওয়ানডেতেও ঘুরে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানের পরাজয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। ফলে শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ২৩৪ রানে অলআউট হয়। ব্যাটিংয়ে তাওহীদ হৃদয়ের ৬০, তানজিদ হাসান তামিমের ৫৭, নুরুল হাসান সোহানের ৩৮ এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ২৭ রানের লড়াকু ইনিংসও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেনি। ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়মিত উইকেট হারানোই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে সেখান থেকে ইনিংস গড়ে তোলেন বেন কুরান। ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তিনি ১৩৫ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন। শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ ২৪৭/৬-এ পৌঁছে দেন।

বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে সফল হলেও শেষ ১০ ওভারে রান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে শেষ ওভারে ২২ রান দেওয়ায় জিম্বাবুয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি এবং তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত বিদায় নিলে চাপ বাড়ে। এরপর তানজিদ তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের ৮৪ রানের জুটি আশা জাগালেও সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি কেউ। শেষদিকে নুরুল হাসান ও মিরাজ লড়াই চালালেও ম্যাচ বের করে আনতে ব্যর্থ হন।

জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা তিনটি এবং ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নেন। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন বেন কুরান।

টেস্ট সিরিজে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজও হারায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বোলিংয়ে ভালো শুরু করেও শেষদিকে নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব সফরজুড়েই ভুগিয়েছে দলকে। এখন শেষ ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানোই হবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ২৪৭/৬ (বেন কুরান ১১১*, ব্র্যাড ইভান্স ৫৮*, সিকান্দার রাজা ৩৩; তাসকিন আহমেদ ২/৫৭, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/৩২)

বাংলাদেশ: ২৩৪ অলআউট (তাওহীদ হৃদয় ৬০, তানজিদ হাসান তামিম ৫৭, নুরুল হাসান ৩৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭; রিচার্ড এনগারাভা ৩/৫৫, ব্লেসিং মুজারাবানি ২/৩৩, ব্র্যাড ইভান্স ২/৪৮)

ফল: জিম্বাবুয়ে ১৩ রানে জয়ী; তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ম্যাচসেরা: বেন কুরান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen + nineteen =