ব্যাটিং ধস ও পাল্টা লড়াইয়ে সমানে সমান মিরপুর টেস্ট

সালেক সুফী

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন ছিল ঘটনাবহুল। প্রথম দিন ২১৩/৩ নিয়ে স্বস্তিতে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিং দ্বিতীয় দিনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজও শুরুতে উইকেট হারালেও দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের প্রতিরোধে লড়াইয়ে ফিরে এসেছে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।

বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে দ্বিতীয় দিনের খেলাও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়। ফলে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন দুই দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আপাতত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ দুই দলের সামনেই রয়েছে।

প্রথম দিন ২১৩/৩ নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ৯৯ এবং লিটন দাস ১০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামেন। প্রত্যাশা ছিল, এই অবস্থান থেকে বাংলাদেশ অন্তত ৪০০ রানের সংগ্রহ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেবে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই ব্যক্তিগত দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করা সাদমান বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জশুয়া বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১০৫ রানে বিদায় নেন তিনি।

আগের দিন চোট পেয়ে অবসর নেওয়া তাওহীদ হৃদয় আবার ব্যাট করতে নামলেও বিশপের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন। মুহূর্তেই বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২২১ রান। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে।

বাঁহাতি স্পিনার যোমেল ওয়ারিকন এবং পেসার শামার জোসেফ দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডারকে বিপর্যস্ত করেন। মাত্র ৫১ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস।

ওয়ারিকন ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর। শামার জোসেফ নেন ৪১ রানে ২ উইকেট এবং অভিষিক্ত জশুয়া বিশপ ৬১ রানে ২ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজকেও দুর্দান্ত এক বলে ফিরিয়ে দেন ওয়ারিকন। ভালো খেলতে থাকা লিটন দাস ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও চোটের কারণে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার সুযোগ পাননি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের কৃতিত্ব অবশ্যই দিতে হবে। তবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদেরও দায়িত্বহীনতার দায় নিতে হবে। বিশেষ করে দিনের শুরুতে সাদমান ও হৃদয় আরও কিছুক্ষণ দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলে দল অনেক বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে পারত। অসম বাউন্স ও স্পিনের সহায়তা থাকা উইকেটে ২৭২ রান একেবারে ছোট সংগ্রহ নয়, কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তত ৩৫০ রান করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজও শুরুতে ধাক্কা খায়। হাসান মাহমুদ ১৫ রান করা ব্রেন্ডন কিংকে ফিরিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ৬১ রানের জুটি গড়ে দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করেন। ৫৪ রান করা ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এর আগে নাঈম হাসানের হাতে ক্যাম্পবেলের একটি সহজ ক্যাচ ফসকে যায়, যা বাংলাদেশের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এরপর তাইজুল ইসলাম একই ওভারে কেভিন হজ (৭) ও আমির জাঙ্গুকে (০) ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলেন। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করে যাচ্ছেন ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল। দিন শেষে তিনি ৪৩ রানে অপরাজিত। অন্য প্রান্তে জাস্টিন গ্রিভস অপরাজিত আছেন ১৫ রানে।

মিরপুরের উইকেটে অসম বাউন্স ও স্পিনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। কিছু বল বিপজ্জনকভাবে ঘুরছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের লিড ঠেকানো। অন্যদিকে সফরকারীরা চাইবে উইকেটে টিকে থেকে যতটা সম্ভব বাংলাদেশের সংগ্রহের কাছাকাছি পৌঁছাতে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে মিরপুর টেস্টে দুই দলই লড়াইয়ে রয়েছে। তৃতীয় দিনের সকালের সেশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের পরবর্তী গতিপথ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭২ অলআউট

সাদমান ইসলাম ১০৫, তাওহীদ হৃদয় ৪২, লিটন দাস ৩৪*, মোমিনুল হক ২৮।

যোমেল ওয়ারিকন ৫/৫৩, শামার জোসেফ ২/৪১, জশুয়া বিশপ ২/৬১।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ১৩৪/৪

জন ক্যাম্পবেল ৫৪, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ৪৩*, জাস্টিন গ্রিভস ১৫*।

তাইজুল ইসলাম ২/৪৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৪৪, হাসান মাহমুদ ১/২৫।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × 1 =