ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার দাপট

ঢাকা, ২১ জুন ২০২৬ – তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ ৭ উইকেটে পরাজিত হয়। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি ৩–০ ব্যবধানে জিতে নেয়। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল যথাক্রমে ৪ উইকেটে এবং ৭ রানে। খবর বাসস

তবে টি-টোয়েন্টির আগে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল টাইগাররা।

নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি অষ্টমবারের মতো তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এর আগে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে দুইবার করে এবং আফগানিস্তান, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে একবার করে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে দলটি।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৫ ওভারে ১১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধস নামে ইনিংসে। ওপেনার তানজিদ হাসান ৫ রান ও সাইফ হাসান ১ রান করে ফিরে যান। তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ বলে মাত্র ১ রান করেন।

চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১৪ বলে ২৩ রান যোগ করার পর সপ্তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় জুটি। নুরুল হাসান ৬ রানে আউট হন অ্যাডাম জাম্পার বলে।

এরপর শামীম হোসেন কোনো রান না করেই ফিরে গেলে বাংলাদেশ ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে।

এক প্রান্তে ধস নামলেও তাওহিদ হৃদয় ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রিশাদ হোসেনের সঙ্গে ২০ বলে ২৬ রান যোগ করেন তিনি। তবে রিশাদ ১৬ রান করে আউট হন। নাসুম আহমেদ কোনো রান না করেই ফেরেন।

অষ্টম উইকেটে শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ২১ রান যোগ করেন হৃদয়। শরিফুল ৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত হৃদয়ের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান তোলে।

হৃদয় ৪১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং ৫১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জনসন ও অ্যাডাম জাম্পা ২টি করে উইকেট নেন।

১১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লেতেই তারা ১ উইকেটে ৫৪ রান তোলে। ষষ্ঠ ওভারে জশ ইংলিশকে ১৭ রানে আউট করে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাসুম আহমেদ।

তবে এরপর অধিনায়ক মিচেল মার্শ ঝড়ো ব্যাটিং করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেন। ২৮ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬০ রান করে তিনি আউট হন শরিফুল ইসলামের বলে।

মার্শ আউটের পর কুপার কনোলি ১৫ রানে ফেরেন রিশাদ হোসেনের শিকার হয়ে।

১০০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও অস্ট্রেলিয়ার জয় আর দেরি হয়নি। ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড মাত্র ৩ বলে ১২ রান তুলে ৯ ওভার বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন। রেনশ ৬ রানে এবং ডেভিড ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন মিচেল মার্শ এবং সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন ম্যাট রেনশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ১০৯/৮ (২০ ওভার) — তাওহিদ হৃদয় ৬১*, রিশাদ ১৬; জনসন ২/৬

অস্ট্রেলিয়া: ১১২/৩ (১১ ওভার) — মার্শ ৬০, ইংলিশ ১৭; নাসুম ১/১০

ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ৩–০ ব্যবধানে জয়ী

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × three =