ব্রাজিল–নরওয়ে মহারণ: পরিসংখ্যান বলছে কী?

রঙবেরঙ ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। দুই দলের অতীত ইতিহাস, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বলছে, জমজমাট এক লড়াই অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য। সূত্র: সোফাস্কোর

দুই দলের মধ্যে এটি হবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র পঞ্চম সাক্ষাৎ। অবাক করার মতো বিষয় হলো, আগের চার দেখায় একবারও জয় পায়নি ব্রাজিল। নরওয়ে দুটি ম্যাচ জিতেছে, বাকি দুটি হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে এর আগে একমাত্র দেখা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, যেখানে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল নরওয়ে।

তবে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের রেকর্ড যথেষ্ট সমৃদ্ধ। শেষ ১০টি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে পরাজয়।

আরেকটি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে ভাবাচ্ছে। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে টানা ছয়বার বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এবার সেই হতাশার অধ্যায়ের ইতি টানতে চায় কার্লো আনচেলত্তির দল।

চলতি বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৫টি শট নিয়েছে ব্রাজিল, যা ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। তবে সুযোগ তৈরির মান অনেক উন্নত হয়েছে। প্রতি শটে তাদের প্রত্যাশিত গোল (Expected Goals/xG) গড় ০.১৬, যা এই সময়ে সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপ নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রথমবারের মতো তারা নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচ খেলছে এবং ইতোমধ্যে তিনটি জয় পেয়েছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খেলা চার ম্যাচেই গোল করেছে এবং গোলও হজম করেছে নরওয়ে। মোট ১০ গোল করার বিপরীতে তারা হজম করেছে ৮টি।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নজর কাড়ছেন দুই দলের তারকারা। ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস ইতোমধ্যে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৬৬ সালের পর এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে এটি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড। তাঁর ওপরে রয়েছেন শুধু কিংবদন্তি পেলে, যিনি ১৯৭০ বিশ্বকাপে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

অন্যদিকে, নরওয়ের প্রাণভোমরা এরলিং হালান্ড টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে। ইউরোপের মাত্র অষ্টম ফুটবলার হিসেবে এই নজির গড়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।

সব মিলিয়ে অতীতের পরিসংখ্যান, বর্তমান ফর্ম এবং দুই দলের আক্রমণাত্মক সামর্থ্য বিবেচনায় ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি হতে পারে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম উপভোগ্য লড়াই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − twelve =