যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী ফেরত ও অভিবাসী বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়

ওয়াশিংটন, ২৬ জুন ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করার নীতি এবং হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা (TPS) প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দুটি রায় দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ৬-৩ ভোটে দেওয়া এসব রায় ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য বড় আইনি বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর নিউজ এজেন্সিজ ও অনলাইন

আদালত রায়ে জানায়, সীমান্তে অতিরিক্ত চাপের কারণে ফেডারেল সরকার প্রয়োজনে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ স্থগিত রেখে তাদের ফিরিয়ে দিতে পারবে। এর ফলে ‘মিটারিং’ নামে পরিচিত নীতিটি পুনরায় চালুর পথ উন্মুক্ত হলো। এই নীতির আওতায় সীমান্তে অপেক্ষমাণ আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত করা বা সীমান্তেই আটকে রাখা সম্ভব হবে।

বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবে প্রবেশ না করা পর্যন্ত কোনো বিদেশিকে আইনের দৃষ্টিতে দেশটিতে ‘পৌঁছেছে’ বলে গণ্য করা যাবে না। ফলে সীমান্তের বাইরে অবস্থানকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আশ্রয় আবেদন করার অধিকার পান না।

তবে রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছেন উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র। তার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরও বেশি মানুষ বিপজ্জনকভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করবে এবং সহিংসতা ও মানবিক সংকটের ঝুঁকি বাড়বে।

একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট আরেকটি ৬-৩ রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (TPS) প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬,১০০ সিরীয় অভিবাসী বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন, যদিও তাদের আইনি চ্যালেঞ্জ এখনো চলমান।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ রায়কে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা একে মানবিক সুরক্ষা ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 10 =