সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের সহায়তায় সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থার প্রয়োজন

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির মুখোমুখি হলে তাদের সময়মতো ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারে। “বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য রেফারেল ব্যবস্থা” শীর্ষক সেমিনারে “বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সহায়তা সেবার ম্যাপিং এবং একটি রেফারেল ব্যবস্থা প্রস্তাব” শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, একটি প্রস্তাবিত রেফারেল ব্যবস্থা ও কৌশলগত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। স্বাধীনতা: ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি (FREEDOM) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই গবেষণাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং বাস্তবায়ন করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF)।

সেমিনারের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া একটি প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সরকার, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আমাদের পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, তাতে তরুণদের এসব পরিবর্তনের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহার করতে সক্ষম করে তুলতে হবে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য আইনি ও মনোসামাজিক সহায়তা, জরুরি সাড়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবা দেশে রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কাজ করে এবং বিশেষায়িত সেবায় প্রবেশাধিকার সারা দেশে সমান নয়। জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় এ ঘাটতি বেশি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন, “হুমকির মুখে পড়লে কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকারকর্মীর যেন সহায়তা পাওয়ার জায়গা নিয়ে দ্বিধায় থাকতে না হয়। তাঁরা যেন স্পষ্টভাবে জানতে পারেন কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কী ধরনের সহায়তা পাওয়া সম্ভব। আজকের এই আলোচনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং একটি স্পষ্ট রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ, যাতে প্রয়োজনের সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ বাড়ালেও অপতথ্য, ঘৃণা, অনলাইন হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তিনি সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর অধিকার ও সুরক্ষা এবং গণমাধ্যম সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।”

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, ডিজিটাল ডেমোক্রেসি শুধু মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নয়; মানুষ প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে পারছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “শুধু প্ল্যাটফর্ম, নীতিমালা বা কর্মপরিকল্পনা থাকলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না।” অভিযোগের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা ও দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।”

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “আইন ও নীতিমালা থাকা যথেষ্ট নয়, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। অপতথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি বাড়ছে, তাই নাগরিকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × five =