স্পেনের শৈল্পিক ফুটবলে ম্লান আর্জেন্টিনা, অতিরিক্ত সময়ে গোলে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ স্প্যানিশদের

পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বে আধিপত্য বিস্তার করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোজারা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচে ফেরাটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল তাদের স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে প্রায় পুরো সময়ই নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক অসাধারণ সেভ না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা ছিল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে। লিওনেল মেসিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগ। বিস্ময়করভাবে ম্যাচের ১১৬ মিনিট পর্যন্ত স্পেনের গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটই নিতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট ছিল আরও স্পষ্ট। বলের দখলে তারা এগিয়ে ছিল ৬৫ শতাংশে, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। পাসের সংখ্যাতেও বড় ব্যবধান ছিল দুই দলের মধ্যে। স্পেন ৩৬৩টি পাস সম্পন্ন করে, বিপরীতে আর্জেন্টিনা দেয় ২০০টি। প্রথম ৪৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি—যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। ৬২ মিনিটে ফেরান তোরেস ও পেদ্রিকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে আরও গতি আনেন স্পেনের কোচ। ৬৮ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। একজন কম নিয়ে খেলতে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়লেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি।

পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড ফেরান তোরেসের সামনে আসে। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠেও সমতা ফেরাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরল স্পেন। শিরোপার পথে তারা পর্তুগাল, উরুগুয়ে, ফ্রান্স এবং সর্বশেষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের তৃতীয় দল হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়ও সম্ভবত শেষ হলো হতাশা নিয়ে।

দেড় মাস ধরে ফুটবল বিশ্বকে মোহাবিষ্ট করে রাখা ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা নামল স্পেনের মুকুট জয়ের মধ্য দিয়ে। নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ করল ইউরোপের এই পরাশক্তি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + three =