ক্রিকেট বিশ্বের দুই প্রান্তে শুরু হচ্ছে দুই ঘরানার টেস্ট সিরিজ

রাত পোহালেই দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান কিংসমিড স্টেডিয়ামে শুরু হবে বর্তমান আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়ন শিরোপাধারী দক্ষিণ আফ্রিকা আর বর্তমান মেয়াদে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়র গুরুতূপূর্ণ তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

একই দিনে দুবাইতে শুরু হবে ভিন্ন গুরুত্বের বাংলাদেশ আফগানিস্তান টেস্ট সিরিজ। প্রথম সিরিজটি দুটি শীর্ষ স্থানীয় দলের জন্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অবস্থান নিশ্চিত করার দৈরথ। অন্যদিকে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের জন্য মর্যাদার লড়াই। বাংলাদেশ এই সিরিজের পর টেস্ট খেলতে পারি জমাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়।

২০১৮ স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির পর এবার প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ খেলতে গাছে অস্ট্রেলিয়া। ওদের জন্য অনেক কিছুই আছে প্রমাণের। আর স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার মিশন হবে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চলতি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা।

স্মরণীয় যে অস্ট্রেলিয়া কিছু আগে টেস্ট রাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে ডারউইন টেস্টে অপ্রত্যাশিত ভাবে পরাজিত হয়েছে। সিরিজের বাকি দুটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে সেন্ট জর্জ পার্ক, গেবাড়হা এবং নিউ ল্যান্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ড কেপটাউন।

অস্ট্রেলিয়া দলের সাম্প্রতিক টেস্ট ফর্মে ভাটির টান লেগেছে। দলের বোলিং আক্রমণ সর্বকালের অন্যতম সেরা মিচেল স্টার্ক, জশ হেজেলউড, পাট কামিন্স আর নাথান লায়নের উপস্থিতিতে অত্যন্ত ক্ষুরধার হলেও ব্যাটিং খরা দলের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  ক্ষুরধার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেয়ার পর নির্ভর যোগ্য ওপেনিং জুটি মিলছে না। মার্নাস লেবুসাং নিজেকে হারিয়ে খুঁজছে।

দলের ব্যাটিং অনেকটা এখন কিংবদন্তি স্টিভ স্মিথ নির্ভর। মিডল অর্ডারে অন্যতম সেরা ট্রাভিস হেডের সাফল্যের উপর নির্ভর করবে দলের অনেক কিছু। ক্যামেরুন গ্রিন আর জশ ইংলিশ আহত হয়ে পড়ায় দলের বিকল্প ব্যাটিং সম্পদ সীমিত হয়ে পড়েছে। সম্ভবত রেনসো এবং হারপারকে ইনিংস সূচনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। সিরিজটি হবে লেবুস্যাংয়ের জন্য নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার।

সিরিজ জয়ের জন্য নিজেদের সেরা ফর্মে থেকে অবদান রাখতে হবে  স্টিভ স্মিথ এবং ট্রাভিস হেডকে। লেট্ মিডল অর্ডারে অবদান রাখতে হবে কারী আর ওয়েবস্টারকে। দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় উইকেটে তুখোড় দক্ষিণ আফ্রিকান বোলিং আক্রমণের মুখে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।

তবে অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত ৩৫০ রান করলে সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণ নিয়ে লড়াই করবে সন্দেহ নেই। স্টার্ক, কামিন্স, হেজেলউড, লায়নের সঙ্গে আছে বোলান্ড। প্রয়োজনে চার পেসার নিয়েও খেলতে পারে অস্ট্রেলিয়া। প্রয়োজনে ওয়েবস্টার করবে বোলিং।

যেভাবেই হোক লড়বে ক্যাঙ্গারু বাহিনী সন্দেহ নেই। এই সিরিজ হেরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার ফাইনাল খেলা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। পরবর্তী সিরিজ ভারতে ভারতের বিরুদ্ধে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড

ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লেবুসাং, ম্যাথু রেনসো, কুপার কলোনী, নিক মাদিনসন, আলেক্স কারী, স্যাম হার্পার, বিউ ওয়েবস্টার,স্কট বোলান্ড, জস হেজেলউড, ম্যাথিউ কুহনারমান, নাথান লায়ন, মাইকেল নেসার এবং মিচেল স্টার্ক।

অস্ট্রেলিয়ার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা অনেকটা স্বস্তিতে আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড

টেম্বা বাভুমা, মার্কাস আকারমান, ডেভিড বেডিংহাম, করবিন বচ, জেরাল্ড কোয়েটজে, টনি ডে জর্জি, সাইমন হারপার, মার্কো জেনসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মারকরাম, উইয়ান মুলডার, সেনুরান মুৎসুয়ামি, এনরিক নর্টেজে, ডান প্যাটারসন, রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্তাব এবং কাইল ভেরিন।

কাগিসো রাবাদা আহত থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও দলে এখনো পেস এবং স্পিন সমাহারে শক্তিশালী বোলিং সমাহার মজুদ আছে। আছে  তরুণ এবং অভিজ্ঞতার মিশ্রনে তুখোড় ব্যাটসম্যান সমাহার। আছে বাভুমার মত বিচক্ষণ অধিনায়ক, এইডেন মারকরামের মত নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান, ডেভিড বেডিংহাম, করবিন বচ, রিকেলটন, আকারমানের মতো তরুণ তুর্কি। নিজেদের পরিচিত পরিবেশে আমি দক্ষিণ আফ্রিকাকে এগিয়ে রাখবো। স্মরণে রাখতে হবে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই পরাজিত করেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রোটিয়া বাহিনী।

বাংলাদেশ আফগানিস্তান সিরিজ নিয়ে আলাদা করে লিখবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − four =