টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হতাশার পর টি-টোয়েন্টিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।
রোববার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারালেও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ৫৮ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ ওভারে মাহেদি হাসানের বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হয় সফরকারীদের।

এই জয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে একই ব্যবধানে (২-১) সিরিজ জিতেছিল টাইগাররা।
এর আগে চলতি সফরে একমাত্র টেস্টে ১-০ ব্যবধানে এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় তাই সফরের শেষটা রাঙিয়ে দিল।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ডিওন মায়ার্স। ৫৩ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা।
বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন দুটি উইকেট নেন। এছাড়া মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন ও আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন। শেষ তিন ওভারে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে মাত্র ১৬ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি টাইগাররা।

জবাবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাইফ হাসান আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ৫৫ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। ইমন ২৪ রান করে ফিরলেও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ৬৩ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে জয়ের ভিত শক্ত করেন তিনি। হৃদয় ২৪ রান করেন।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। নাটকীয় সেই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফুদ্দিন দ্রুত আউট হয়ে গেলে চাপ বাড়ে। তবে শেষ তিন বলে প্রয়োজনীয় ৪ রানের মধ্যে চতুর্থ বলে কভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মাহেদি হাসান।
জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা, ব্র্যাড ইভান্স ও সিকান্দার রাজা দুটি করে উইকেট নিলেও তানজিদের দৃঢ় ইনিংসের সামনে শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।
টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল বাংলাদেশ। এই সাফল্য আগামী আন্তর্জাতিক সূচির আগে দলকে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে।