ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেন যখন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে, তখন ম্যাচটি আরেকটি বিশেষ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটাবে। টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচনায় থাকা ডালাস স্টেডিয়ামের বিশেষ হাইব্রিড পিচ এই ম্যাচের পরই খুলে ফেলা হবে। রয়টার্স।
বিশ্বকাপের ৪৮ দলের নতুন আসরের জন্য বিশ্বের ১৬টি ভেন্যুতে একই মানের খেলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পাঁচ বছরের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পিচগুলো প্রস্তুত করা হয়। ডালাস স্টেডিয়ামে কাজটি ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজের কৃত্রিম টার্ফের ওপর প্রায় সাড়ে চার ফুট উঁচুতে পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক হাইব্রিড ঘাসের মাঠ তৈরি করা হয়।
ডালাস স্টেডিয়ামের ফিফা পিচ ম্যানেজার ইয়ান ক্রেইগ বলেন,“বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের জন্য বিশ্বের সেরা খেলার মাঠ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। শুধু সবুজ ঘাস থাকলেই হবে না, বলের গতি, বাউন্স ও খেলার মানও অভিন্ন রাখতে হয়েছে।”
ফিফার পিচ ব্যবস্থাপনা দল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির টার্ফ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে এমন একটি পিচ তৈরি করেছে, যাতে প্রতিটি ভেন্যুতেই বলের গতি ও আচরণ প্রায় একই থাকে।
ডালাস স্টেডিয়ামটি ছাদযুক্ত হওয়ায় সূর্যালোকের অভাব এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে স্বাভাবিক ঘাস টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। এজন্য কলোরাডো থেকে বিশেষ ধরনের ঘাস এনে লাগানো হয় এবং ম্যাচ ছাড়া অন্য দিনগুলোতে ছাদ থেকে ঝুলানো বিশেষ গ্রো লাইট দিয়ে ঘাসের পরিচর্যা করা হয়েছে।
ক্রেইগ বলেন,“এটি কোনো অস্থায়ী কার্পেট নয়। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলোতে যেভাবে হাইব্রিড পিচ তৈরি করা হয়, এটিও ঠিক সেই মানের।”
চার সপ্তাহে নয়টি ম্যাচ আয়োজনের পর মঙ্গলবারের সেমিফাইনাল শেষেই পিচ অপসারণের কাজ শুরু হবে। এরপর স্টেডিয়ামটি আবার এনএফএল ম্যাচ, কনসার্টসহ অন্যান্য আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
বিশ্বকাপে ডালাসের এই উদ্ভাবনী হাইব্রিড পিচকে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রযুক্তিগত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর জন্যও একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।