ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে আসছে নতুন নীতিমালা

রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত নীতিমালা ও নির্দেশনা জারি করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় আধুনিক ও বহুমাত্রিক (মাল্টিমোডাল) যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে এসব যানবাহনের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের ওপর ন্যস্ত। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনা হবে।

এর আগে সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার বলেন, পরিবহন খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যার বড় অংশ আসে ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাক থেকে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি ধীরে ধীরে গণপরিবহনকে বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সিএনজি, এলএনজি, সবুজ হাইড্রোজেন ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক একদিকে যেমন স্বল্প খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে রাজধানীতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাই এসব পরিবেশবান্ধব যান পুরোপুরি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতায় এনে মানসম্মত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনার দাবি জানান।

জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করছে, যার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের নিবন্ধন, পরিচালনা, রুট ব্যবস্থাপনা এবং তদারকির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে। নীতিমালা কার্যকর হলে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে তা বাস্তবায়ন করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে, সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহারও একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen + sixteen =