বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং ইতিহাস, আবেগ আর পুরোনো বৈরিতারও নতুন অধ্যায়! মাঠে বাঁশি বাজতে এখনো কিছুটা সময় বাকি, কিন্তু আটলান্টায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে আগেভাগেই। আয়োজক শহরের পুলিশ মনে করছে, এই ম্যাচকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে দুই দেশের অতীত সম্পর্কও প্রভাব ফেলতে পারে গ্যালারির পরিবেশে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় ৭৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা গ্যালারি! স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের পুরোপুরি আলাদা রাখার সুযোগ সীমিত থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। স্টেডিয়ামের ভেতরের পাশাপাশি বাইরের এলাকাও থাকবে কঠোর নজরদারিতে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিনোদন কেন্দ্র এবং দর্শনার্থীদের বেশি সমাগম হয়-এমন স্থানগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশের উপস্থিতি।
আটলান্টা পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্বকাপের এই বড় আয়োজন উপলক্ষে শহরে মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তাই যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তাদের লক্ষ্য, দর্শক ও স্থানীয় বাসিন্দারা যেন নিশ্চিন্তে এই ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন এবং সম্ভাব্য কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণ তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ছিল। তবুও মায়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন বৈধ টিকিট ছাড়া স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তবু আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
দুই দেশের এই দ্বৈরথকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতার অন্যতম কারণ তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ইতিহাস। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বারবার বলে আসছেন, এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই মানেই অতীতের নানা স্মৃতি ফিরে আসা।
বিশ্বকাপে দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় সাক্ষাৎ ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেন, এরপর করেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল, যা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত। ২-১ গোলের সেই জয় আর্জেন্টিনাকে শুধু সেমিফাইনালে তোলেনি, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফিও এনে দিয়েছিল!
পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিশ্বকাপে পাঁচবারের দেখায় ইংল্যান্ড এগিয়ে। তিনটি ম্যাচ জিতেছে তারা, আর্জেন্টিনার জয় দুটি। তবে অতীতের রেকর্ড নয়, এবার দুই দলই নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালও বিশেষ একটি কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকছে। প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল- ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড একসঙ্গে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। ডালাসে ফ্রান্স-স্পেন লড়াইয়ের পর আটলান্টায় হবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মহারণ। সেই ম্যাচ শেষে বিজয়ী দল পা রাখবে ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে, যেখানে অপেক্ষা করবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চ!