টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের হতাশা কাটিয়ে আজ (১৫ জুলাই) থেকে বুলাওয়েতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সাম্প্রতিক ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে না থাকলেও সংক্ষিপ্ত সংস্করণে শক্তি, অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যান বিবেচনায় সিরিজে এগিয়ে থাকছে টাইগাররাই।
১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি ম্যাচ।
টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এবং ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের সামনে এখন টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংস্করণে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ জিম্বাবুয়ের তুলনায় অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর।
তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, শেখ মাহেদি হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে নিয়ে গড়া বোলিং ইউনিট প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সামর্থ্য রাখে। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের না থাকার সম্ভাবনা থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা ধাক্কা হতে পারে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাটিং বিভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফরম্যাটে ব্যাটাররা ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখালেও জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা এবং ভালো সূচনা কাজে লাগাতে না পারার কারণে বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, টি-টোয়েন্টিতে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে পারলে বাংলাদেশ সহজেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হলেও দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলতে হবে, যাতে ১৭০ বা তার বেশি রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়। অন্যদিকে, বোলিংয়ে শৃঙ্খলা বজায় রেখে জিম্বাবুয়েকে ১৫০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, নাসুম আহমেদ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।
অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিকান্দার রাজা। এছাড়া রয়েছেন ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাদান্ডে, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা, ডিয়ন মায়ার্স, মিল্টন শুম্বা প্রমুখ।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বিবেচনায় সিরিজকে সহজ বলা যাবে না। তবে কাগজে-কলমে শক্তি, অভিজ্ঞতা এবং টি-টোয়েন্টি রেকর্ড বিবেচনায় টাইগাররাই ফেভারিট। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ব্যাটিং ইউনিটকে দায়িত্বশীল ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতেই হবে।