টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। কৌশলগত, নিয়ন্ত্রিত ও পরিণত ফুটবল খেলে পুরো ম্যাচেই দিদিয়ের দেশমের দলকে ছন্দহীন করে রাখে লা রোহা। এখন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের পরিচিত বল দখলের ফুটবলের পাশাপাশি সুসংগঠিত রক্ষণ কৌশল প্রয়োগ করে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গতিনির্ভর আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। একই সঙ্গে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক পরিকল্পিত আক্রমণে ফ্রান্সকে চাপে রাখে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
প্রথমার্ধের ২০ মিনিটে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই সুযোগ থেকে মিকেল ওইয়ারসাবাল নিখুঁত শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ফ্রান্স আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায় ফ্রান্স, কিন্তু এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা স্প্যানিশ ডিফেন্সের শক্ত দেয়াল ভেদ করতে ব্যর্থ হন।
৬৪ মিনিটে লামিন ইয়ামাল আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবু ম্যাচের বাকি সময়েও স্পেনই ছিল বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত দল।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্সকে এদিন যেন চেনাই যায়নি। আক্রমণভাগে তাদের সৃজনশীলতা ছিল অনুপস্থিত, আর মাঝমাঠের লড়াইয়েও স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। দ্রুতগতির ফরাসি ফুটবলের বিপরীতে স্পেনের ধৈর্যশীল পাসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত শৃঙ্খলাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।
পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যেরই সাক্ষ্য দেয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ ১০ দেখায় স্পেনের এটি সপ্তম জয়। এই সময়ে তারা মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল ও ২০২৫ সালের নেশনস লিগের পর এবারও বড় মঞ্চে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তিও গড়েছে স্পেন। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন হাতছানি দিচ্ছে লা রোহাকে।
ফ্রান্সের গতি ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিপরীতে স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় ফুটবলই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ফাইনালের আগে এই জয় স্পেনকে শুধু আত্মবিশ্বাসই দেয়নি, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।