২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের দায়িত্বকালও শেষ হয়েছে। বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করলেও ম্যাচের রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরাসি কোচ।
ম্যাচজুড়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেকে নিয়ে গড়া আক্রমণ স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি। অন্যদিকে বলের দখল, মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত আক্রমণে পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ধরে রাখে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের ওপর লুকা দিনিয়ের ফাউলের পর পেনাল্টি পায় স্পেন। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিদ্ধান্ত বহাল রাখার পর স্পট-কিক থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই ম্যাচ শেষে প্রশ্ন তোলেন দেশম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “রেফারিং নিয়ে বেশি কথা বললে মনে হতে পারে আমি হারের অজুহাত দিচ্ছি। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারির মান যথেষ্ট ছিল কি না। শুধু পেনাল্টির ঘটনাই নয়, ম্যাচের আরও কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও আমার প্রশ্ন আছে। তবে এটি ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ নয়।”
তবে হারের দায় রেফারির ওপর চাপিয়ে দিতে রাজি নন ফ্রান্স কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচে স্পেনের তুলনায় টেকনিক্যাল দিক থেকে পিছিয়ে ছিল ফরাসি দল।
দেশম বলেন, “আমাদের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। টেকনিক্যাল দিক থেকে আমরা স্পেনের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম। নিজেদের সামর্থ্যের তুলনায় নিচু মানের ফুটবল খেলেছি। কিছু ভুল পাস এবং সিদ্ধান্ত আমাদের সুযোগ নষ্ট করেছে।”
প্রতিপক্ষ স্পেনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্প্যানিশরা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, বল পুনরুদ্ধার এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তাই পুরো ম্যাচে ফ্রান্স কখনোই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি।
এই সেমিফাইনালই ছিল ফ্রান্সের দায়িত্বে দেশমের শেষ ম্যাচ। ২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ফ্রান্স। দীর্ঘ ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি দলকে বহু সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল কোচ হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন।
যদিও বিদায়ী ম্যাচটি পরাজয়ে শেষ হয়েছে, তবুও ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে দিদিয়ের দেশমের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।