সুপার এইটে টানা দ্বিতীয় জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

কুইন্ট ডি ককের ব্যাটিং নৈপুন্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গতরাতে সুপার এইটে গ্রুপ-২এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে।

এই জয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৮ রানে হারিয়েছিলো প্রোটিয়ারা। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচের সবগুলোতেই এ পর্যন্ত  জয়ী হয়েছে  দক্ষিণ আফ্রিকা। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিন আফ্রিকার কাছে হারলো ইংল্যান্ড।

সেন্ট লুসিয়ায় টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নেমে ডি ককের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দারুন শুরু পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডি ককের ২০ বলে ৪৯ রানের সুবাদে পাওয়ার প্লেতে ৬৩ রান তুলে প্রোটিয়ারা।

সপ্তম ওভারে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরি করেন ২২ বল খেলা ডি কক। দশম ওভারে দলীয় ৮৬ রানে ওপেনার রেজা হেনড্রিক্সকে শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন ইংল্যান্ডের স্পিনার মঈন আলি। ১৯ রান করেন হেনড্রিক্স। ১২তম ওভারে ডি কককে থামান পেসার জোফরা আর্চার। ৪টি করে চার ও ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৫ রানে আউট হন আর্চার।

দলীয় ৯২ রানে  ডি কক ফেরার পর মিডল অর্ডারে হেনরিচ ক্লাসেন ৮ ও অধিনায়ক আইডেন মার্করাম ১ রানে থামলে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে পঞ্চম উইকেটে ২৭ বলে ৪২ রানের জুটিতে প্রোটিয়াদের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৮ বলে ৪৩ রান করেন মিলার। স্টাবসের ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১২ রান। ইংল্যান্ডের আর্চার ৪০ রানে ৩ উইকেট নেন।

জবাবে উপরের সারির ব্যাটাররা ব্যর্থ হলে ১১তম ওভারে ৪ উইকেটে ৬১ রানে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। ফিল সল্ট ১১, অধিনায়ক জশ বাটলার ১৭, জনি বেয়ারস্টো ১৬ ও মঈন আলি ৯ রান করেন। এরমধ্যে ২ উইকেট নেন স্পিনার কেশব মহারাজ।

পঞ্চম উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে  তোলেন  ইংল্যান্ডের দুই মিডল অর্ডার ব্যাটার হ্যারি ব্রুক ও লিয়াম লিভিংস্টোন। দু’জনের ৪২ বলে ৭৮ রানের জুটিতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয় ইংল্যান্ডের। ১৭ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৯ রান তুলে ইংলিশরা।

১৭ বলে ৩৩ রান করা লিভিংস্টোনকে ১৮তম ওভারে  শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার কাগিসো রাবাদা। অন্যপ্রান্তে ৩৪ বলে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ধরে রাখেন ব্রুক। শেষ ওভারে ১৪ রানের প্রয়োজনে পেসার এনরিচ নর্টির প্রথম বলেই আউট হন ব্রুক। ৭টি চারে ৩৭ বলে ৫৩ রান করেন ব্রুক।

ব্রুক ফেরার পর বাকী পাঁচ বলে ৬ রানের বেশি নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত  ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৬ রানে থামে  ইংলিশরা। দক্ষিণ আফ্রিকার রাবাদা-মহারাজ ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন ডি কক।

বাসস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 1 =