২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার ডালাসে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে স্পেন এগিয়ে থাকলেও, বড় টুর্নামেন্টের নকআউট ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা ফ্রান্সকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা। ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জমজমাট এক দ্বৈরথের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। ইউরো, নেশনস লিগের পর এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও মুখোমুখি হচ্ছে তারা। ম্যাচের আগে মাঠের বাইরেও উত্তাপ ছড়িয়েছে দুই শিবিরে। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছে স্পেন। এখন পর্যন্ত ৩৮টি ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে ১৮টিতে, ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি এবং ড্র হয়েছে ৭টি। তবে বড় আসরের নকআউট ম্যাচের স্মৃতি ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলে।
১৯৮৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে স্পেনকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফ্রান্স। ২০২১ উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে ট্রফি ঘরে তোলে তারা। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বাধীন ফরাসিরা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টেছে চিত্র। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন গত দুই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই ফ্রান্সকে হারিয়েছে। ২০২৪ ইউরো সেমিফাইনালে ২-১ এবং ২০২৫ নেশনস লিগ সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে আত্মবিশ্বাসী স্প্যানিশরা।

এবারের বিশ্বকাপেও দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বল দখল, দলগত সমন্বয় ও সুসংগঠিত রক্ষণভাগ স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটিতে স্পষ্ট কোনো ফেভারিট নেই। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা এবং ঐতিহ্য ফ্রান্সকে সমানভাবে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছে।
ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার এই লড়াইয়ে ইউরোপের দুই পরাশক্তির দ্বৈরথে ছোট একটি ভুল কিংবা একটি মুহূর্তের ঝলকই গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই ডালাসে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি রোমাঞ্চকর ফুটবল যুদ্ধ।