ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাতে খুচরা ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।  খবর বাসস

আজ (বুধবার) রমনায় বিইআরসি’র সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সমন্বয়কৃত বিল জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যহার (ভারিত গড়) প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

অপরদিকে সমন্বয় হিসেবে পাইকারি মূল্যহার (ভারিত গড়) প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ মূল্য বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বা কোম্পানিসমূহের বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জালাল আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবেদন, দাখিলকৃত দলিলাদি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ অনুযায়ী পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপিএলসি)-এর সঞ্চালন ব্যয় বিবেচনায় বিদ্যুতের বিদ্যমান সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ (ভারিত গড়) প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ০.৩১৩৫ টাকা থেকে ০.০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে ০.৩৮৮৬ টাকায় সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহকদের (মাসিক ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) জন্য ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা এবং ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫০ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭ টাকা ৫৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫১ পয়সা বাড়িয়ে ৯ টাকা ১০ পয়সা। ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৮ টাকা ২ পয়সা থেকে ১ টাকা ৬০ পয়সা বাড়িয়ে ৯ টাকা ৬২ পয়সা। ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ১২ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে ১৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে ২ টাকা টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে, কৃষি সেচে ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে। শিক্ষা, ধর্মীয়, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৫ পয়সা করা হয়েছে।

রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের ক্ষেত্রে ৯ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে। ক্ষুদ্রশিল্পের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা করা হয়েছে। নির্মাণশিল্পে ১৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ৯ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

ইলেকট্রিক ভেহিকেল ও ব্যাটারিচার্জিং স্টেশনে ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিসে ১৩ টাকা ১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৩৬ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিশন সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 + 18 =