শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। বিরতির পর ব্রাজিল আক্রমণের গতি বাড়িয়ে কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরায়। এরপর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয়ের উল্লাসে মাতে সেলেসাওরা।

প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও জাপানের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। পাল্টা আক্রমণনির্ভর কৌশলে খেলা জাপান ৩০তম মিনিটে মাঝমাঠে ব্রাজিলের ভুলের সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায়। কাইশু সানো দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে এশিয়ার দলকে লিড এনে দেন।

গোল হজমের পরও প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া ও কাসেমিরোদের আক্রমণে ছিল না প্রয়োজনীয় ধার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিবর্তন এনে লুকাস পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই পরিবর্তনের প্রভাব দ্রুতই দেখা যায়। ৫৬তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো।

সমতায় ফেরার পর একের পর এক আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। ৬০তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে লিড নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। অন্যদিকে জাপানও রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালিয়ে যায়।

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে জাপানের জালে বল জড়িয়ে দেন মার্তিনেল্লি। বিশ্বকাপে এটিই ছিল আর্সেনাল ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ব্রাজিল। অন্যদিকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও হতাশার গল্প লিখতে হলো জাপানকে। এর আগে চারবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলটি এবারও শেষ ৩২ থেকেই টুর্নামেন্টকে বিদায় জানাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eighteen + seventeen =