
স্যার গারফিল্ড অউব্রান সোবার্স।সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার! প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে ফিরে গেলেন অনন্ত সাজঘরে চিরদিনের জন্য। বিশ্ব ক্রিকেট যে কয়েকজনের অসামান্য অবদানে সুরভিত বার্বাডোজের প্রকৃতিজাত সোবার্স তাদের মধ্যে উজ্জ্বলতম। প্রাতঃস্মরণীয় অতুলনীয় প্রতিভা। বিধ্বংসী বাম হাতি ব্যাটসম্যান, অপ্রতিরোধ্য পেস, স্পিন, চায়নামন বোলার, বাজপাখির মতো ক্ষিপ্র তুখোড় ফিল্ডার। যেন একই একটি বিজয়ী দল। এহেন এক মহীরুহের মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর তার সঙ্গে খেলা, তাকে ক্রিকেট মাঠে দেখা সবাই। আমরা যারা তার খেলা দেখে, পত্রিকায় পড়ে তার গুণমুদ্ধ তারা আজ শোকে কাতর। জানি আর কখনো তার মতো বহুদর্শী ক্রিকেটার আর জন্ম হবে না। আজ এই লেখায় এই সদ্যপ্রয়াত ক্রিকেট মহামানবকে জানাচ্ছি কুর্নিশ।
প্রথমেই একটি দৈনিক থেকে তার ক্রিকেট জীবনের সার সংক্ষেপ ধার করে উদ্ধৃত করছি।
গারফিল্ড সোবার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত ৯৩ টেস্ট খেলে রান করেছেন ৮,০৩২; গড় ৫৭.৭৮—যা টেস্ট ইতিহাসে ৫,০০০ রানের বেশি করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ। বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট, গড় ৩৪.০৩।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৮৩ ম্যাচে করেছেন ২৮ হাজারের বেশি রান, উইকেট নিয়েছেন এক হাজারের বেশি। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে খেলেছেন সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে।ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। বৈবাহিক সূত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান এই কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পান ১৯৮০ সালে। ১৯৯৮ সালে বার্বাডোজের সংসদে একটি আইনের মাধ্যমে সোবার্সকে দেশের ১১ জন জাতীয় বীরের একজন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাকে ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করে।
আমরা জানি অস্ট্রেলিয়ার ডোনাল্ড ব্রাডম্যান, ভারতের সচিন টেন্ডুলকার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা, হয়তো ব্যাটসম্যান হিসাবে সোবার্সের থেকে বেশি সফল ছিল। ইংল্যান্ডের জেম এন্ডারসন, অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন বা শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরণ হয়তো সোবার্সের চাইতে বোলার হিসাবে বেশি সাফল্যের অধিকারী, দক্ষিণ আফ্রিকার কলিন ব্ল্যান্ড হয়ত ছিল ফিল্ডার হিসাবে বেশি সফল। কিন্তু একই সঙ্গে অতুলনীয় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং নিয়ে বার্বাডোজের সোবার্স ছিল সবার উপরে। সবাইকে ছাড়িয়ে সাফল্যের হিমালয় চূড়ায়।

আমরা একসময় ইমরান, বোথাম, হ্যাডলি, কপিল দেবের চৌকষ প্রতিভা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনায় মেতেছি। অনেকে আবার এই আলোচনায় বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানকেও শামিল করেছি। কিন্তু যে সময় যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ক্রিকেট খেলে সৌরভ ছড়িয়েছে সোবার্স তার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা চলে না। তার মৃত্যুতে ক্রিকেট বিশ্ব হারালো এক অনন্য প্রতিভা। ক্রিকেট যতদিন থাকবে এই নশ্বর পৃথিবীতে স্মরণ করা হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট চৌকষ সোবার্সকে।