মেসির আর্জেন্টিনা নাকি কেনের ইংল্যান্ড—বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ঘিরে তুঙ্গে উত্তেজনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে। বুধবারের এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড।

বিশ্ব ফুটবলের দুই ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তির এই দ্বৈরথ মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও ঐতিহাসিক ও আবেগঘন নানা কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। অতীতের স্মরণীয় বিশ্বকাপ লড়াই এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস ম্যাচটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে।

লিওনেল স্কালোনির দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনা সেই কীর্তি গড়তে পারলে সেটি হবে কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।

৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন। কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে নকআউট পর্বের দুই ম্যাচেই গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্টে খুব বেশি ধারাবাহিক ফুটবল না খেললেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। কোচ থমাস টুখেলের দলের আক্রমণের মূল ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেন এবং মিডফিল্ড তারকা জুড বেলিংহাম। দলের করা ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিতেই অবদান রয়েছে এই দুই ফুটবলারের।

ম্যাচের আগে টুখেল বলেন, “চাপ অবশ্যই থাকবে, তবে সেটি স্বাভাবিক। সবচেয়ে ভালো লাগছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা এবং লড়াই করার মানসিকতা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, অসুস্থতা কাটিয়ে মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস সেমিফাইনালে শুরুর একাদশে খেলতে প্রস্তুত।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং তাঁর একক নৈপুণ্যের আরেকটি গোল ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও দুই দলের লড়াই নাটকীয় মোড় নেয়। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড দেখেন এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

তবে বর্তমান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি এই ম্যাচকে রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক আবেগের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এই ম্যাচকে মেলাতে চাই না। ইতিহাসের সেই অধ্যায় অবশ্যই বেদনাদায়ক, কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি শুধুই মাঠের লড়াই।”

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাই আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তি। একদিকে মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রায় ছয় দশক পর বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে আরেকটি স্মরণীয় সেমিফাইনালের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen − 9 =