সালেক সুফী
নিজের প্রথম পছন্দের দল বলে নয় পাঁচ বারের বিশ্বকাপ জয়ী এবং প্রতিটি বিশ্বকাপ খেলা বাজিল এবারেও ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ের অন্যতম ফেভারিট দল এই ধারণা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যাবেনা। জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে ৫ম শিরোপা অর্জনের পর থেকেই দলটি হেক্সা জয়ের মিশনে প্রতিবার চেষ্টা করে বিশ্বব্যাপী বিপুল সমর্থকদের হতাশ করে কখনো সেমি ফাইনাল কখনো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে ব্রাজিল দল নানা উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ বা দক্ষিণ আমেরিকা কোপা আমেরিকায় বিবর্ণ থাকার পর অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আন্সেলোটির জাদুকরী পরশে ধীরে ধীরে নিজেদের খুঁজে পেয়েছে ব্রাজিল। ফিরে এসেছে জয়ের ক্ষুধা, সৃজনশীল ছন্দময় ফুটবল শৈলী। অভিজ্ঞ কাসিমেরো, মার্ককুইনহোস, থিয়াগো সিলভা, দানিলো, পাকুইটার সঙ্গে রাফিনিয়া, তরুণ সেন্সেশন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, পেদ্রো আর বিস্ময় বালক এন্ড্রিককে সমন্বিত করে ডাইনামিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। আক্রমণ ভাগের প্রাণভোমরা নেইমারকে সযত্নে সংরক্ষিত রেখেছে। অত্যাধুনিক চিকিৎসায় অসুস্থতা দ্রুত ম্যাচ ফিট হয়ে উঠছে ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোল স্কোরার। নেইমারের অংশগ্রহণ ব্রাজিল আক্রমণ ভাগকে দুর্বার করবে সন্দেহ নেই।

৪৮ দেশের অংশগ্রহণে এবারের টুর্নামেন্টে বিজয়ী দলকে ধারাবাহিক ভাবে ভালো ফুটবল খেলতে হবে। সাম্বা ছন্দে জীবনানন্দে ফুটবল খেলা পেলে, গারিঞ্চা, রোনাল্ড, রোনাল্দিনোর ব্রাজিল হেক্সা জয় করলে বিস্মিত হবোনা।
প্রথম রাউন্ডে সি গ্রুপ থেকে খেলতে হবে মরক্কো, হাইতি আর স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে, সেখান থেকে গ্রুপ অফ ৩২, গ্রুপ অফ ১৬ পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমী ফাইনাল এবং ফাইনাল দীর্ঘ পথ। দেখা হবে স্পেন, পর্তুগাল, জাপান, নেদারল্যান্ড হয়তো আর্জেন্টিনার সঙ্গে। প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ, অধিকাংশ দলের রয়েছে চমক সৃষ্টির সক্ষমতা।
স্কোয়াড: গোল কীপার:
এলিসন (লিভারপুল), এডারসন (ফেনেবাক), বেন্তো (আল নাসের), হিউগো সৌজা (কোরিন্থিয়ানস), জন ভিক্টর (নটিংহ্যাম ফরেস্ট) এবং কার্লোস মিগুয়েল (পালমিরারস)।
রক্ষণ ভাগ: মারকুইনহোস (পিএসজি), থিয়াগো সিলভা (পোর্তো), দানিলো লুইস (ফ্লামেংগো), আলেসান্দ্রো (ফ্লামেংগো ), গ্যাব্রিয়েল মাগনহয়েস (আর্সেনাল), ব্রেমার (জুভেন্টাস), ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো (ক্রজেরো), কাইও হেনরিকে (মোনাকো), ওয়েসলি (রোমা), পাওলো হেনরিক (ভাস্কো ডা গামা), লুসিয়ানো জুবা (বাহিয়া), ভিটিনহো (বোতাফোগো), লিও পেরেইরা (ফ্লামেঙ্গো ), আলেসান্দ্রো (লিলে), ইবানেজ (আল আহিল), কার্লোস অগাস্তো (ইন্টারমিলান) ।

মধ্যমাঠ
কাসিমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গুইমারেস (নিউ ক্যাসেল ইউনাইটেড), ফাবিনহো (আল ইতিহাদ), আন্দ্রে সান্তোস, ডানিলো (বোতাফোগো),লুকাস পাকুইটা (ফ্লামেংগো), গ্যাব্রিয়েল সারা (গালাতাসারায়), জোয়াও গোমেজ (উল্ভারহ্যাম্পটন), আন্দ্রেয়াস পেরেইরা (পালমিরা) জলিংটন (নিউক্যাসেল ইউনাইটেড), গারসন (ত্রুইজেরো), ম্যাথিয়াস পেরেইরা (ত্রুইজেরো)
ফরোয়ার্ড:
ভিনিসিয়াস জুনিয়র (রিয়েল মাদ্রিদ), রাফিনহা (বার্সেলোনা), ম্যাথিউস কুনহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), লুই হেনরিকে (জেনিট সেন্ট পিটার্সবার্গ) ,গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি (আর্সেনাল), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি ), নেইমার জুনিয়র (সান্তোস), এন্ড্রিক (লিওন), রায়ান (বোর্নমাউথ), এন্টোনি (রিয়েল, বেটিস) ইগোর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), পেদ্রো (ফ্লামেঙ্গো), রিচারলিসন (টটেনহাম হটস্পার), ইগোর জেসাস (নটিংহাম ফরেস্ট) কায়ো জর্জ (ত্রুজেইরো) এবং স্যামুয়েল লিনো (ফ্লামেংগো)
আজীবন ব্রাজিল অনুরাগী হলেও আমার বিশ্লেষণে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনাল পৌঁছাতে সংগ্রাম করতে হবে। যদি সেখানে পৌছায় তবে শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে। ব্রাজিল প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৩ জুন শনিবার (যুক্তরাষ্ট্র)। প্রথম ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উভয় দলের জন্য।