৪০ ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপে ফেভারিটদের দাপট, জমে উঠছে নকআউটের লড়াই

সালেক সুফী

৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের ৪০টি ম্যাচ শেষে টুর্নামেন্টের চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামগুলোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে এখন পর্যন্ত বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত চিত্রই দেখা যাচ্ছে। শিরোপার দাবিদার দলগুলো নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নকআউট পর্বের পথে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

প্রতিটি ম্যাচে ৫০ থেকে ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অংশগ্রহণ বিশ্বকাপকে আবারও ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ পরিণত করেছে। স্বাগতিক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভালো পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড ও জার্মানি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এখনো তাদের সমর্থকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালও এখন পর্যন্ত কিছুটা হতাশ করেছে।

তবে এবারের আসরের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো ছোট দেশগুলোর সাহসী উপস্থিতি। প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কুরাসাও ও কেপ ভার্দে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, আফ্রিকার মরক্কো ও আইভরি কোস্ট এবং ওশেনিয়ার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এখনো নিজেদের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে।

গ্রুপভিত্তিক লড়াইয়ে মেক্সিকো, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ড প্রায় নিশ্চিত করেছে। নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেনের মধ্যে এফ গ্রুপে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। অন্যদিকে স্পেন, উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দের মধ্যে এইচ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ভালো অবস্থানে থাকলেও এখনো নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে পারেনি। একইভাবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও নরওয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে আই গ্রুপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের ইঙ্গিত দিয়েছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও আলো ছড়াচ্ছেন তারকা ফুটবলাররা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লিওনেল মেসি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিলেও প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে তুলনামূলকভাবে নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

বিশ্বকাপের পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। প্রথম রাউন্ডের ৭২ ম্যাচ শেষে শুরু হবে ৩২ দলের নকআউট পর্ব, এরপর রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং মহারণের ফাইনাল। তাই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পরবর্তী পর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

৪০ ম্যাচ শেষে বড় কোনো অঘটন না ঘটলেও টুর্নামেন্ট যত এগোবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ততই কঠিন হবে। এখন পর্যন্ত বলা যায়, বিশ্বকাপের ফেবারিটরাই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে এবং ফুটবলপ্রেমীরা সামনে আরও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 2 =